বেশি দামে মুরগির খাদ্য কিনে কম দামে ডিম বিক্রি করতে বাধ্য হওয়ায় লোকসানে পড়েছেন ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার কয়েকশ পোলট্রি খামারি। কয়েক দিন ধরে পাইকারি বাজারে উৎপাদন খরচের চেয়েও কম দামে ডিম বিক্রি করতে হচ্ছে বলে খামারিরা জানিয়েছেন।
উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় কয়েকটি বড় আকারের পোলট্রি খামার থাকলেও ছোট ও মাঝারি আকারের খামারের সংখ্যা বেশি। এর মধ্যে ভালুকা, মল্লিকবাড়ী, উথুরা, হবিরবাড়ী ও ডাকাতিয়া ইউনিয়নে পাঁচ শতাধিক প্রান্তিক খামারি রয়েছেন। এসব খামার থেকে প্রতিদিন কয়েক লাখ ডিম ঢাকার তেজগাঁও ও কারওয়ান বাজারের আড়তগুলোতে সরবরাহ করা হয়।
সম্প্রতি পাইকারিতে প্রতিটি ডিম বিক্রি হচ্ছে ৭ দশমিক ৪০ টাকায়। তবে ডিমের দাম আরো কমতে পারে এমন আশঙ্কা করছেন ভালুকার খামারিরা। তারা বলছেন, আগের তুলনায় দ্বিগুণ দামে মুরগির খাদ্য ও ওষুধ কিনতে হচ্ছে। এ অবস্থায় ডিমের দাম কমতে থাকলে ব্যাপক লোকসানের মুখোমুখি হবেন এখানকার কয়েকশ খামারি।
স্থানীয় খামারি মীনা আক্তার বলেন, ‘মুরগির খাদ্য ও ওষুধের দাম চড়া হওয়ায় ডিম উৎপাদনের খরচ বেড়েছে কিন্তু বিক্রয়মূল্য কম। এ অবস্থায় কোনো রকমে টিকে আছি। আগে খামার থেকে প্রতিটি ডিম ৮-৯ টাকা দরে বিক্রি করলেও মোটামুটি মুনাফা থাকত। এখন পাইকারি দাম কমেছে, অথচ খুচরা বাজারে ভোক্তাদের কাছে প্রতিটি ডিম ১১ টাকা, অর্থাৎ এক হালি ৪৫-৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।’
আরেক খামারি রেজাউল করিম জানান, আগে ৫০ কেজির এক বস্তা মুরগির খাবার ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকায় কিনতে হতো। তখন প্রতি ডিম ৫ টাকায় বিক্রি করলেও খরচ বাদে লাভ থাকত। তবে এখন একই খাদ্য কিনতে গুনতে হচ্ছে ২ হাজার ৫৫০ টাকা।’
খামারিরা বলেন, মুরগির খাদ্য ও ওষুধের দাম না কমলে কম দামে ডিম বিক্রি করে তাদের বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়তে হবে। এতে শত শত খামারি ব্যবসা গুটিয়ে নিতে পারেন। খাদ্য ও ওষুধের দাম বৃদ্ধির কারণে বারবার লোকসান হওয়ায় অনেকে এরই মধ্যে মুরগি বিক্রি করে খামার ছেড়ে দিয়েছেন বলেও জানান তারা। পোলট্রি শিল্প বাঁচাতে খাদ্য ও ওষুধের মূল্য কমানো এবং ডিমের বাজার ভোক্তাদের সহনীয় পর্যায়ে রাখতে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগকে অবিলম্বে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় খামারিরা।